সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মার্চ / ৩১ / ২০২২


nice

বড় দুই বাঁধে ধস, চিন্তিত ৫০ হাজার কৃষক


118

Shares

সুনামগঞ্জের দুটি বৃহৎ হাওরের দুই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ধসে যাওয়ায় চিন্তিত হাওরপাড়ের কৃষকরা। বাঁধ দুটি হচ্ছে জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওরে থাকা নলুয়ার হাওরের কলইকাটা বাঁধ এবং জামালগঞ্জের হালির হাওরের গণিয়ার ভাঙা বাঁধ। জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর ও জামালগঞ্জের হালির হাওর মিলে জমি প্রায় ২০ হাজার হেক্টরের মত।

এই দুই হাওরে ৫০ হাজারেরও বেশি কৃষক জমি চাষাবাদ করেন। গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে ধস শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন তারা। দুই বাঁধেই জরুরি কাজ (ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক) শুরু করেছে কতৃর্পক্ষ। কুশিয়ারা ও নলজুর নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওরের দিকে ঢলের পানির প্রবেশ ঠেকায় নলুয়ার হাওরের কলইকাটা বাঁধ। বাঁধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাঁধে কাজ করার জন্য দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসিকে) ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এই বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের পরে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীতে পানি আসায় অসময়ে হওয়া বাঁধের নীচের মাটি নরম হয়ে গত শনিবার থেকে ধস শুরু হয় ।

এখন বার বার মাটি দিলেও টিকছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা বর্তমান বাঁধ এর পরিবর্তে আরেকটি বিকল্প বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করছে গেল সোমবার থেকে।

কৃষকরা বলেছেন, যেখানে বিকল্প বাঁধ হচ্ছে, আগে থেকে সেখানে বাঁধের কাজ হলে এমন বিপদ হতো না। টাকারও অপচয় হতো না। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব অমিত দেব বললেন, বাঁধটি আগেই সরিয়ে করা যেত, তাতে উৎকণ্ঠাও তৈরি হতো না, টাকা অপচয়ও হতো না। এখন বৃষ্টি হলেই বাঁধ ধসবে।

আতঙ্কে থাকবেন নলুয়ার হাওরপাড়ের কৃষকরা। বাঁধের পিআইসি সভাপতি সাহিজুর রহমান খলিল বললেন, এখন যেখানে বিকল্প বাঁধ হচ্ছে, চেষ্টা করলে শুরুতেই ওখানে বাঁধ করা যেত। জমির মালিক কৃষকরা বাধা দিয়েছেন।

তবে ভালোভাবে চেষ্টা করলে কৃষকদের বুঝিয়ে কাজটি করা যেত। এখন মহাবিপদে পড়েছেন তারা। পেছনে বিকল্প বাঁধ দ্রুত করা হচ্ছে, কিন্তু বাঁধ নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বললেন, বাঁধে ৫ বার ডিজাইন লেবেলে কাজ করা হয়েছে।

তবুও দেবে যায় বাঁধ। গত বছরেও এখানে বাঁধ করা হয়েছিল। এক সপ্তাহ হয় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এখন এই বাঁধ রেখেই জরুরি ভিত্তিতে (ইমারজেন্সি ওয়ার্ক) বিকল্প আরেকটি বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে।

ওই বাঁধে ১০—১২ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। আগে কেন বর্তমানের বিকল্প স্থানে বাঁধটি করা গেলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বললেন, আগে এরকম হবে বুঝা যায় নি, আগের বছরও একই স্থানে বাঁধ করা হয়েছিল। জেলার জামালগঞ্জের হালির হাওরেও প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো জমি রয়েছে।

এই হাওরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বৌলাই নদীতে অকালে আসা পানি কূল উপচে হাওরে প্রবেশ ঠেকাতে গণিয়ার ভাঙায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। গেল মাসে বৌলাই নদীর পাড় ভেঙে বাঁধের পাশে চলে এসেছে। গত কয়েকদিনে এই বাঁধের ৮—১০ ফুট অংশ ধসে গেছে।

এ কারণে চিন্তিত হাওরপাড়ের হাজার হাজার কৃষক। এই বাঁধে জরুরি কাজ করা হচ্ছে । বাঁধের পিআইসি সভাপতি এমরুল কায়েস বললেন, জিও বস্তা দিয়ে বাঁধ আটকানো যাচ্ছে না। নদী ভাঙতে ভাঙতে বাঁধের কাছে এসেছে, বাঁধের স্লোফ ৭—৮ ফুট ধসে গেছে। ২০ মার্চ থেকে বাঁধে জরুরি কাজ শুরু হয়েছে।

এই কাজ আরও আগে করলে ভালো হত। জামালগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল কবির বললেন, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাবে বা বাঁধ ধসে যাবে, এমনটা আগে বুঝা যায় নি।

এখন ওখানে জরুরি কাজ করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বললেন, ৭২৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ৪২ টি হাওরে ১২১ কোটি টাকার বাঁধের কাজ করেছে। হালিয়ার হাওরের গণিয়ার ভাঙা নলুয়ার হাওরের কলইকাটা ছাড়া অন্য কোন বাঁধে বড় ধসের খবর পাওয়া যায় নি।

সিলেট প্রতিক্ষণ