180
Sharesসিলেটের মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাধিক তীর জুয়াসহ নানা অপরাধের স্পট গড়ে উঠায় উদ্বেগে আছেন এই এলাকার সচেতন বাসিন্দারা।
জানা গেছে, জুয়ার টাকার লোভে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছেলেরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসন মাঝে-মধ্যে এসব ক্রাইম স্পটে অভিযান চালালেও মূল অপরাধীরা থেকে যায় আড়ালে।
ক্রাইম স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে চলে ভারতীয় তীর শিলং জুয়া, টিকটিকি, জান্ডুমান্ডু, তিন তাস, কাটাকাটি ও ইন্ডিয়া লটারি। এছাড়াও এসব স্পটে একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে। মাঝে-মধ্যে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমায় আলোচিত আসরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর চাঁদনীঘাট মাছ বাজারের ভিতরে। সেই আসরটির মালিক আল-আমিন, নজরুল ও তাদের সঙ্গীরা।
কয়েকদিন আগে এই আসরে মোবাইল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে জুয়ার বোর্ডের মালিক আলোচিত আল-আমিন দক্ষিণ সুরমার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ধরে সেটি মিটমাট করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে- আল আমিন বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিয়ে নিরাপদে চালিয়ে যান তাঁর অপরাধ কর্মকাণ্ড। অপরদিকে, কিন ব্রিজের নিচে রয়েছে আরেকটি ক্রাইম স্পট। জিঞ্জির শাহ (র.)-এর মাজার এলাকায় ভাঙ্গাড়ি কাশেম ও জামালের নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠেছে পৃথক জুয়ার আসর।
এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট জুয়ার আসর বসে। এছাড়াও দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়ন অফিসের পাশেই জগলু মিয়ার কলোনিতে জুয়ার স্পট রয়েছে। সূত্রে প্রকাশ- দক্ষিণ সুরমার শীর্ষ জুয়াড়ি নজরুল, আল-আমিন, কাশেম ও জামাল দীর্ঘদিন থেকে এসব স্পটে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসিয়েছেন।
স্থানীয়রা এসব জুয়ার বোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কোনো সুফল পাচ্ছেন না। যে কারণে দিন দিন জুয়াড়িরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় প্রশাসন মাঝে-মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে জুয়াড়িদের আটক করলেও মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।
দক্ষিণ সুরমায় প্রকাশ্যে এসব জুয়ার আসরে প্রশাসনের অভিযান চলার পরেও কিক করে অপরাধীরা ছাড়া পায় এবং ছাড়া পাওয়ার পর আবারও অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় এই নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
দক্ষিণ সুরমায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমার চাদনীঘাট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আমাদের দক্ষিণ সুরমায় কিশোররা যেভাবে অপরাধের সাথে লিপ্ত হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে তারা বড় ধরণের অপরাধীতে পরিণত হবে।
এদের দ্বারা দেশ ও জনগণের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে। বিভিন্ন কলোনিতে বসবাসরত কিশোরদের সঙ্গ নিয়ে তারা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এখনই তাদের দমন না করলে কিশোর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন- পুলিশ ও কিছু অসাধু প্রভাবশালী মহল নিয়মিত এসব স্পট থেকে বখরা নেন। এসব কারণে জুয়াড়িরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, গতকালও দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন জুয়ার স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অপরাধ কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ামাত্র আমরা অভিযান পরিচালনা করে থাকি। আমাদের কাছে জুয়াড়িদের কোনো ছাড় নেই। দক্ষিণ সুরমা থেকে অপরাধ নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি কামরুল হাসান তালুকদার।