সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মার্চ / ০৮ / ২০২২


flim

কারা হচ্ছেন সিলেট জেলা বিএনপির কান্ডারি?


99

Shares

‘শীঘ্রই হচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিল’ এমন খবর গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও আলোর মুখ দেখেনি দলটির নেতাকর্মীদের কাঙ্ক্ষিত সেই কাউন্সিল। তবে অবশেষে তা হতে যাচ্ছে আগামী ২১ মার্চ। এদিনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা সিলেট জেলা বিএনপিতে। কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে।

কাউন্সিল পরিচালনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফফারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। গতকাল (৭ মার্চ) সোমবার বিকেলে নগরীর শিবগঞ্জে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- মঈনুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ, অধ্যাপক সামিয়া বেগম চৌধুরী ও শাহজামাল নুরুল হুদা। জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, ২১ মার্চ কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হলেও স্থান ও সময় নির্ধারণ হয়নি।

দু-তিন দিনের মধ্যে তা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া জেলার যেসব উপজেলা ও পৌর বিএনপির এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি তাদের ১২ মার্চের মধ্যে ১০১ সদস্যের কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর সিলেট জেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহ্বায়ক করে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা ছিল। তিন মাসের এ কমিটি এরই মধ্যে আড়াই বছর পার করেছে। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে সভাপতি পদে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী ও আবদুর রাজ্জাক আলোচনায় আছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে আলী আহমদ, এমরান আহমদ, আবদুল আহাদ খান জামাল, এম এ মান্নান ও কামরুল হাসান শাহীনের নাম। কাউন্সিলের ঠিক আগে একেবারে শেষ মুহুর্তে চমক সৃষ্টি করে সভাপতি পদে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ওঠেছে। তিনি স্থানীয় বিএনপিতে ক্যারিশমাটিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। জেলা বিএনপির সভাপতি পদে তাঁর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে সম্প্রতি শুরু হয় নতুন হিসাব-নিকাশ।

৩ মাসের মেয়াদ দিয়ে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহ্বায়ক করা হয় এবং ১ নম্বর সদস্য করা হয় সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে। কিন্তু ৩ মাসে তো হয়-ই-নি, দুই বছর পেরিয়ে সেই ‘অস্থায়ী কমিটি’ পা রেখেছে ৩ বছরে। তবে এবার সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২১ মার্চ হতে যাচ্ছে জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সে কাউন্সিল জেলা বিএনপিতে এনে দেবে নতুন নেতৃৃত্ব। কে হচ্ছেন জেলার সভাপতি? এমন প্রশ্নে নেতাকর্মীদের আলোচনায় এবার চলে এসেছে চারজনের নাম। তারমধ্যে প্রথমজন হচ্ছেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক চৌধুরী।

একসময় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেট মহানগর থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে। এবার জেলা কমিটির সভাপতি হবার দৌঁড়ে তাঁর নাম তালিকার উপরদিকে চলে আসায় পাল্টে গেছে নেতাকর্মীদের হিসেব-নিকেশ। নতুন সমীকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির এক সূত্র জানায়, মেয়র আরিফ এখনও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও তাঁর ঘনিষ্টজনরা বলছেন- তৃণমূলের প্রস্তাব ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন তিনি।

নতুন উপজেলা ও পৌরকমিটিগুলোর নেতৃৃবৃন্দ এ বিষয়ে মেয়র আরিফুল হকের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করে দিয়েছেন। আগামী কাউন্সিলকে ঘিরে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করছেন আরিফুল হক। এতদিন দলীয় কার্যক্রমে খুব একটি সক্রিয় দেখা না গেলেও জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে ওঠেছেন স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা।

জেলার সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেয়র আরিফকে জেলা বিএনপির শীর্ষ পদটিতে দেখা গেলে দলের কার্যক্রম এবং সকল কর্মসূচি পালনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সিলেট প্রতিক্ষণ