98
Sharesকোনো কোচিং না করেই এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ২৭৯৬তম হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন বাবা হারা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আঁখি রানী তালুকদার।
তিনি ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে। এমন খুশির খবরেও এ মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবারকে হতাশার কালো মেঘ ঘিরে রেখেছে। কারণ আঁখির মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তার ভিটেমাটিহীন দরিদ্র পরিবারের।
যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মানবিক সহায়তা চাইছেন তারা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটের ব্যবসায়ী রমেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার (পঠন বাবু) ও মিনা রাণী তালুকদার দম্পতি ছোট মেয়ে আঁখি। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শয্যাশায়ী থেকে চিকিৎসার অভাবে মারা যান আঁখির বাবা।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে আঁখির পরিবার। তবে তখন থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন আঁখি। কিন্তু বাবাকে হারিয়ে তখন থেকেই নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তাদের।
তবে দারিদ্রতা মেধাবী আঁখির বিদ্যার্জনে পথ রুখতে পারেনি। দারিদ্রতার দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ২০২২ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। এমন সুখবরেও পরিবারটির হতাশা কাটছে না।
কারণ আঁখির মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার মতো অর্থ নেই পরিবারের।বুধবার আঁখির বিধবা ‘মা’ মিনা রানী তালুকদারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।
তিনি জানান, দারিদ্রতার কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে ভিটে মাটিহীন অবস্থায় থেকেও কীভাবে আঁখি মেডিকেল কলেজ ভর্তিতে টিকেছে। মিনা রানী তালুকদার বলেন, আঁখি আমার ছোট মেয়ে। চোখের সামনেই সে দেখেছে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় তার বাবা মারা গেছেন।
শত অভাব অনটন দৈন্যতার মাঝে আঁখি টিউশনি করে বড় বোন ও ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে। সংসারের ব্যয় ভার বহন করেছে। নিজে পড়েছে। আঁখির আশা চিকিৎসক হতে পারলে সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে পারবে।
আঁখির মায়ের আকুল আবেদন, স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ভিটেমাটিও হারিয়েছি। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন জাতীর জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পরিবারের দিকে মুখ তোলে থাকালেই কেবল আমার মেয়ে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হতে পারবে।
আঁখির পরিবার জানায়, ২০১২ সালে তাহিরপুরের বাদাঘাটে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় আঁখি জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। ২০১৫ সালে বাবা মারা যাওয়ার দেড় মাস পর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় আঁখি। আবারো জিপিএ-৫ সহ সাধারণ বৃত্তি লাভ করেন।
২০১৮ সালে উপজেলার স্থানীয় একটি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে আঁখি ফের জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর সিলেট সরকারি কলেজে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু অর্থাভাবে একাদশ বর্ষের শুরুতেই টানা আট মাস কলেজে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি তার।
এ সময় স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম চাকরি নেন আঁখির বড়বোন কাজল রানী তালুকদার। এরপর ছোট বোন আঁখিকে গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে সিলেট নিয়ে এসে মেসে তুলে কলেজে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাবার সুযোগ তৈরি করে দেন।
২০১০ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আঁখি ফের জিপিএ-৫ অর্জন করেন।