113
Sharesসাধারণত এপ্রিল মাসে অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বাড়তে থাকে মশার উপদ্রব। বর্ষায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডিম পাড়ে মশা। সেখান থেকে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। কিন্তু এবছর আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই সিলেট নগরীতে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। মশার যন্ত্রণায় রীতিমতো অতিষ্ট হয়ে ওঠেছেন নগরবাসী।
মশার ‘আগাম’ যন্ত্রণায় বেকায়দায় নগর ভবন কর্তৃপক্ষও। বাধ্য হয়ে তারা চলতি মাসেই মশা নিধন অভিযানে নামতে হচ্ছে। আর মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষার দাবি জানিয়ে মশারি টানিয়ে মিছিল করে অভিনব কর্মসূচিও পালন করেছেন ভূক্তভোগী লোকজন।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর মাসে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডজুড়ে চালানো হয়েছিল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। একই সাথে মশার ঔষধও ছিটানো হয় পুরো নগরীতে। এতে মশার উপদ্রব কমে আসে। এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত হলে ওই মাসের শেষের দিকে বা মে মাস নাগাদ আবারও মশক নিধন অভিযানে নামার পরিকল্পনা ছিল সিটি করপোরেশনের। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেটে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হওয়ায় মশার প্রজনন ঘটে।
জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মশা ডিম পাড়ে এবং বংশবিস্তার ঘটায়। এতে বেড়ে যায় মশার উপদ্রব। মশার যন্ত্রণায় কাহিল হয়ে পড়েছেন নগরীর লোকজন। অনার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হওয়ায় রাত জেগে পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মশা থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর থেকে মশারির ভেতরে ঢুকে পড়তে হচ্ছে। রাত-দিন সমানতালে মশার উপদ্রব চলছে। সিলেট নগরীর টিলাগড়ের বাসিন্দা এমসি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবনী তালুকদার জানান, রাত-দিন সমানভাবে মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে।
পরীক্ষা চলায় একটু বেশি রাত পর্যন্ত পড়ালেখা করতে হচ্ছে। কিন্তু মশার ভয়ে মশারি টানিয়ে বিছানায় বসে পড়তে হচ্ছে। কয়েল ও এরোসোল কোনটাতেই মশার যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি মিলছে না। এদিকে, মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষার দাবিতে গতকাল বুধবার নগরীতে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট বিভাগ যুবকল্যাণ সংস্থা।
সকাল ১১টায় তারা শহিদমিনার থেকে মশারি টানিয়ে মিছিল বের করে। মশারিসহ মিছিল নিয়ে তারা নগরভবনে যান। পরে তারা মেয়র বরাবারে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘এবার আগাম বৃষ্টি হওয়ায় মশার বংশবিস্তারও হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু আগেই।
ফেব্রুয়ারিতে কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় ওই সময়ই মশা ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার ঘটায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এখন। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসেই মশক নিধনে নামতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে।’ গেল বছর পর্যন্ত ২৬.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান চালাতে হয়েছে। এতেও হিমশিম খেতে হয়েছে নগরভবন কর্তৃপক্ষকে। সম্প্রতি গেজেট করে সিটি করপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি হয়ে ৬০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ড বেড়েছে আরও ১২টি।
তাই সীমিত জনবল নিয়ে বৃহৎ এলাকার মশক নিধন নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের যে শ্রমিক রয়েছে সেটা ২৭ ওয়ার্ডের মশক নিধনের জন্যই পর্যাপ্ত নয়। এর মধ্যে আগের তুলনায় তিনগুন হয়েছে সিটি করপোরেশনের আয়তন। এই অবস্থায় মশক নিধন অভিযান চালাতে অনেক বেগ পেতে হবে। এছাড়া একযোগে পুরো নগরীতে অভিযান চালানো না গেলে সুফলও কম পাওয়া যায়।