145
Sharesএকসময় ‘দিঘীর শহর’ হিসেবে পরিচিত ছিল পর্যটন নগরী সিলেট। মজুমদার দিঘী, দস্তিদার বাড়ী দিঘী, রামের দিঘী, লালদিঘী, ধোপাদিঘী, মাছুদিঘী, কাস্টঘর দিঘী, সুপানিঘাট দিঘী, কাজলশাহ দিঘী, সাগরদিঘী, চারাদিঘীসহ অসংখ্য দিঘী ছিল নগরজুড়ে। তবে নগরীতে মানুষের কোলাহল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ভরাট হয়েছে এসব দিঘী। যেগুলো অবশিষ্ট আছে, দখল-বেদখলে তার বেশিরভাগই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী ধোপাদিঘীও পরিণত হয়েছিল ভাগাড়ে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সেই ধোপাদিঘী এবার নান্দনিক রূপে ফিরছে।
শনিবার (১১ জুন) ধোপাদিঘীর চারপাশজুড়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা থেকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়। সিসিক ধোপাদিঘীকে নতুন রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ভারত সরকার এগিয়ে আসে এর অর্থায়নে।
‘ধোপাদিঘী এরিয়া ফর বেটার এনভায়মেন্ট অ্যান্ড বিউটিফিকেশন’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, দীঘিতে পানি ছিল ৩ দশমিক ৪১ একর জায়গাজুড়ে।
চারপাশে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের পর পানির সীমানা বেড়ে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৭৫ একরে উন্নীত হয়েছে। নোংরা দুর্গন্ধময় পরিত্যক্ত এই দীঘিকে অপরূপ সৌন্দর্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ধোপাদিঘীতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বসার জন্য রয়েছে বেঞ্চ। পুকুরে নামার জন্য রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঘাট। পুকুরের নোংরা পানিকে পরিষ্কার করা হচ্ছে। নৈসর্গবিদের পরামর্শে গাছ লাগানো হবে। স্থাপন করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘দিঘীর পাড়ের পরিবেশ যেন সুন্দর থাকে, সে ব্যাপারে আমাদের নজর রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য দিঘীগুলোকেও এভাবে রক্ষা করতে হবে।’ সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, শনিবার (৭ জুন) ধোপাদিঘী ওয়াকওয়ের পাশাপাশি আরও তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতের হাইকমিশনার ও সিসিক মেয়র।
বাকি প্রকল্প দুটি হচ্ছে, ৬ তলা বিশিষ্ট চারাদিঘীরপার স্কুল ও কাস্টঘর সুইপার কলোনী। এ তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর ধোপাদিঘী শিগগিরিই সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ধোপাদিঘী রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
দিঘী খনন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পাড় বাঁধানো ও ঘাট তৈরি তৈরি করা ছিল এ প্রকল্পের মূল কাজ।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমার স্বপ্ন ছিল সিলেট মহানগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য একটি নির্মল পরিবেশের স্থান গড়ে তোলা। আমরা সেই চেষ্টা করছি।
এর অংশ হিসেবে ধোপাদীঘিকে সাজানো হয়েছে।’ মেয়র বলেন, ‘দিঘী এলাকা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর প্রবেশপথ থাকবে সিটি করপোরেশনের মসজিদের উত্তর পাশে। রাতের বেলা আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে নগরবাসী যেকোনো সময় এখানে এসে হাঁটাচলা করতে পারবেন।’