সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মার্চ / ১৭ / ২০২২


dhakacity

নিজ শহর সিলেটে যে গল্প শোনালেন মুহিত


103

Shares

আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সাবেক অর্থমন্ত্রী। করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন গত বছর। এরপর থেকে এই গুণী ব্যক্তি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গেল সপ্তাহে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ছিলেন। নিজের শহর সিলেটের জন্য মন উচাটন করছিল। এলেন সিলেটে। আসার পর থেকে হাসিখুশি।

সিলেটের মানুষও দলবেঁধে তাকে দেখতে যাচ্ছেন। সঙ্গ দিচ্ছেন। এতে তিনিও আনন্দিত। বসছেন, গল্প করছেন, সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। বেশির ভাগ সময়ই কাটাচ্ছেন বিশ্রামেই। সিলেটে আসা গুণী ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে ভুল করলেন না সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দিলেন ভালোবাসার প্রতিদান। বুধবার সন্ধ্যা। সুরমার তীর। আলী আমজদের ঘড়ি। ঐতিহাসিক কীন ব্রিজ। চাদনীয় ঘাট। মোহলাগা সময়।

ওখানেই দেয়া হলো সাবেক এই মন্ত্রীকে গুণী শ্রেষ্ঠ সম্মাননা। অতীতে এ সম্মাননা প্রদানের রীতি ছিল না। মেয়র আরিফ তার পরিষদকে নিয়ে এই সম্মানে তাকে ভূষিত করলেন। হুইল চেয়ারে এলেন সাবেক এই মন্ত্রী। হাজারো দর্শক। করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দিত করলেন। মঞ্চে বসলেন মুহিত। পাশে মেয়র আরিফ। আর বসে বসে জীবনের অনেক কথা শোনালেন মুহিত। কণ্ঠে জড়তা ছিল। এরপরও প্রায় আধা ঘণ্টা তিনি গল্প শোনালেন সিলেটবাসীকে। বক্তৃতা শেষে নিজের জন্য দোয়া চাইলেন।

কর্মকাণ্ডে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাও চাইলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গুণীশ্রেষ্ঠ সম্মাননা স্মারক হিসেবে শতবর্ষী আলী আমজদের ঘড়ির স্বর্ণ খচিত র‌্যাপলিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। মুহিত বলেন, আমরা ১৪ জন ভাই বোন। আপনারা জানেন আমি এই দেশের বৃদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। এই বছরের জানুয়ারি মাসে আমার বয়স ৮৮ বছর হয়েছে। আমাকে দীর্ঘ জীবন দান করায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। এমন অনুষ্ঠানে কি বক্তব্য দেয়া যায়? একটি হল প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য দেয়া। আরেকটি হল উপস্থিত পরিস্থিতি বিবেচনায় বক্তব্য প্রদান করা।

আমি দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনুসরণ করলাম। এতে অবশ্য বেশি স্মৃতিচারণ করতে হয়। আমি স্মৃতিচারণ করতেই স্বচ্ছন্দবোধ করব। ছোটবেলার স্মৃতিচারণায় গ্রামীণ জীবন থেকে শহর জীবনের নানা দিক তিনি তুলে ধরেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ছোটবেলার আনন্দময়, স্বাধীনতার দিনগুলো খুবই উপভোগ্য ছিল। সেইসব দিনের সুখকর স্মৃতির স্মরণে আজকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের পরিবেশেই আমার জন্ম। আমার বেড়ে ওঠা। আমি গর্ববোধ করি এখানে জন্মে। এখান থেকে অনেক গুণীর জন্ম হবে।

আজকে সিলেট নগরে আমি একজন অতিথি। এটা একটা গর্বের বিষয়। নিজের জন্মস্থানে নিজে এমন একটি সম্মান পাওয়া গর্বের। সিলেটকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যমন্ডিত স্থান উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত আরো বলেন, জন্মভূমির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। সিলেটে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে হযরত শাহজালাল (রহ) এখানে এসেছিলেন। আমরা বেশিরভাগ মানুষই তার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।

ধর্মাচার পালন করেও আসছি। আমাদের এখানে অন্যান্য ধর্মের আনুষ্ঠানিকতাও সমানভাবে পালিত হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহু পুরনো। নগর পরিচালনা সেবামূলক কাজ উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মেয়রকে আমরা শহর পিতা বলি। তিনি আমাদের সকলের পাহারা প্রধান করেন। কোন গুলমাল হলে সেখানে ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমাদের দেখাশোনা করেন।

আমিও ছোটবেলায় ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করেছি। এখনও আমার মনে হয়, আমি সুযোগ পেলে ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করতে চাই। অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধির বক্তব্য রাখেন, নর্থ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভিসি ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে মুহিতের কর্মময় জীবন তুলে ধরেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী।

সিলেট প্রতিক্ষণ