সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

জুন / ০৭ / ২০২২


ধোপাদিঘি

অবশেষে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘নান্দনিক’ ধোপাদিঘি


199

Shares

কোনো এককালে সিলেট পরিচিত ছিল ‘দিঘির শহর’ হিসেবে। সেই সুখ্যাতি হারিয়ে গেছে অনেক দিন হলো। যে কয়টি এখনও ‘নিবু নিবু করে জ্বলছে’, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ধোপাদিঘি। দখল, দূষণ আর ভরাটে এই দিঘিও পড়েছিল অস্তিত্ব সংকটের মুখে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিকল্পনায় নতুন রূপ পেয়েছে ধোপাদিঘি।

নগরীর মানুষকে নির্মলতার স্বাদ দিতে এই দিঘিকে বদলে দেওয়া হয়েছে নান্দনিকতায়। সিসিক সূত্র বলছে, ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শেষ। আগামী ১১ জুন এটির উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। এই প্রকল্পে ভারত সরকার অর্থায়ন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটের পুরনো কারাগারের পার্শ্বস্থ ধোপাদিঘির নামেই ওই এলাকার নামকরণ হয়। একসময় ধোপা সম্প্রদায়ের লোকজন এই দিঘির পানি ব্যবহার করতেন। প্রায় ছয় একর জায়গা রয়েছে ধোপাদিঘিতে; তন্মধ্যে পাঁচ একরের মালিকানা সিসিকের, এক একন ধোপা সম্প্রদায়ের লোকদের।

এই দিঘির উত্তর ও পূর্বাংশে মার্কেট, দোকানপাট গড়ে ওঠেছে; দক্ষিণে আছে ওসমানী শিশু পার্ক। দখল আর অবৈধ স্থাপনায় দিঘিটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ২০১৮ সালে দিঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন।

নেওয়া হয় ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদীঘি’ নামের একটি প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০১৮ সালের শেষদিকে ধোপাদিঘি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালান মেয়র আরিফ। কিন্তু পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের কাজ গতি হারায়।

ঢাকার ঢালী কনস্ট্রাকশন প্রথমে প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল। কিন্তু তারা ‘দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায়’ পরে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চিন্তাও করেছিল সিসিক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ।

প্রকল্পে ভারত সরকার ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন করে। প্রকল্পের কাজ শেষে এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা। ধোপাদিঘিতে গিয়ে দেখা গেছে, দিঘির চারপাশে প্রায় ৫শ মিটার দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

দিঘিতে নামার জন্য রয়েছে সুদৃশ্য দুটি ঘাট। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রাখা হয়েছে টাইলস বসানো বেঞ্চ, রয়েছে টয়লেটও। ধোপাদিঘি এলাকায় সিটি করপোরেশনের মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে দিঘিতে প্রবেশের পথ রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা বেলায় দিঘি এলাকায় থাকছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।

তবে শিশুদের খেলার জায়গা ও দিঘির পানিতে প্যাডেল বোট রাখার কথা আগে বলা হলেও এখনও তা দেখা যায়নি। জানতে চাইলে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ধোপাদিঘি রক্ষা করতেই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

দিঘি খনন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ঘাট বাঁধানো আর পাড় সংরক্ষণই ছিল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। কাজ শেষ হয়েছে, এখন উদ্বোধন করা হবে।’ আরিফ বলেন, ‘নগরবাসীর জন্য নির্মল পরিবেশে হাঁটাচলার ব্যবস্থা করা আমার অন্যতম লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শেষ করা হয়েছে।’

সিলেট প্রতিক্ষণ