119
Sharesসুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ছয় টুকরো করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার তিন আসামির আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আট দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান আসামিদের আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদন শুনানি শেষে বিচারক ইশরাত জাহান আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালত পরিদর্শক মো. বদরুল আলম তালুকদার। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তিন আসামিকে সিআইডি তাদের হেফাজতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে জগন্নাথপুরের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে এক ফার্মেসির ভেতরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে ওই গৃহবধূকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরো করা হয়। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিক্যাল হল থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর ভাই বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৩ সাল থেকে ওই নারী পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের সব সদস্যদের ওষুধ ‘অভি মেডিক্যাল হল’ নামের ফার্মেসি ওষুধ থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন ধরে ওই নারী বেশ কিছু গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার সমাধানে সুপরামর্শের জন্য গত বুধবার বিকালে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে ভেতরে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়।
কাস্টমারের ভিড় কমলে সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক ওষুধ দেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে আসামি জিতেশচন্দ্র গোপ তার বন্ধু মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপকে (৩৬) নিয়ে ওই নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের বিষয়টি ওই নারী স্বজনদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন অভিযুক্তরা।