জাতীয়



দেশদর্পণ ডেস্ক

অক্টোবর / ০৭ / ২০২৪


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব খুরশেদ আলম পদত্যাগ করেছেন


122

Shares


পদত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে পরিবর্তনের মধ্যে রবিবার (৬ অক্টোবর) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান গণমাধ্যমক বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রবিবার প্রশাসন শাখায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন খুরশেদ আলম। 

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয়ের যে আইনি প্রক্রিয়া তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খুরশেদ আলম। বিশেষজ্ঞ হিসেবে ২০০৯ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলমকে। এরপর তাকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান হিসাবে রাখা হয়।

২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন হয়, যা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। পররাষ্ট্র সচিব কর্মস্থলের বাইরে থাকলে জ্যেষ্ঠ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন এই কর্মকর্তা। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের প্রেক্ষাপটে মাসুদ বিন মোমেনকে বাদ দেওয়ার পর কয়েকদিনের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের ‘রুটিন’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খুরশিদ আলমকে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে অবদানের জন্য খুরশেদ আলমকে ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক ২০২০’ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর কূটনীতিক খোরশেদ আলমকে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘খোরশেদ আলমকে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে সরকার।’

মালয়েশিয়ায় উপ-হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই কূটনীতিককে ওয়ারশতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করে ২৫ সেপ্টেম্বর অফিস আদেশ জারি করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার বদলির ওই আদেশের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সমাবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ দিয়েছিলেন বলেও তুলে ধরা হয় সেসব প্রতিবেদনে।

তবে খুরশেদকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর আদেশ বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা তৌফিক হাসান। খোরশেদ মালয়েশিয়ার কর্মস্থলে থাকবেন, নাকি ঢাকায় ফিরে আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে মালয়েশিয়ায় উপ-হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন খোরশেদ। এ পদে যাওয়ার আগে সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ছিলেন ২০০১ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা। চাকরিজীবনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং ওমানের মাসকাতে বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন খোরশেদ।


ওয়াইএফ/০২

জাতীয়