122
Sharesদিনের বেলা সবার সাথে মিলে মিশে কাটালেও অন্ধকার নামা মাত্রই চলে আসে মরণ ভয়। নদী ভাঙনের তীব্রতা যে হারে বাড়ছে চিন্তা হয় তাদের কখন যেন ঘুমের মধ্যে পরিবারসহ স্বপ্নের নীড় চলে যায় নদীতে।
আর তার সাথে তলিয়ে যায় পৃথিবীর আলো দেখার স্বপ্ন। এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার নাইন্দা তীরবর্তী মানুষেরা। বন্যার আগ্রাসনের পর নদী ভাঙনের কবলে দিশেহারা শান্তিগঞ্জের নাইন্দা নদীর তীরবর্তী জনপদের মানুষ।
নির্ঘুম রাত কাটানো এই জনপদের ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। চুখের সামনেই নদী প্রতিনিয়তই গিলছে বতসভিটা। ঘোলা পানিতে ভেসে যাচ্ছে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। পরিবার নিয়ে নদীর পাশে সুখের নীড় গড়ে তুললেও এখন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে নদী ভাঙন।
শনিবার (১৬ জুলাই) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জয়কলস ইউনিয়নের নাইন্দা নদীর তীরবর্তী সদরপুর গ্রামের হতদারিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক বাড়ি ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
অনেক বসত ভিটায় বড়-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় কখন যেন তাদের ডাক আসে নদীতে চলে যাওয়ার। সামনে পেছনে পানি থাকায় নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে এই অসহায় পরিবারগুলো।
এই মুহূর্তে ছেলেমেয়ে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই তাদের। ভাঙনের কবলে পড়ে এখানকার লোকজনের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। অভিযোগ করে এসব পরিবার জানায়, ভাঙনে আমাদের সব স্বপ্ন তলিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
কয়েক বছর আগে পাঁচ বিঘা জমি কিনে নাইন্দা তীরবর্তী সদরপুর গ্রামে বসতি শুরু করেন শ্যামল দেব ও তার পরিবার। প্রথম অবস্থায় জীবনযাপন সুন্দরভাবে চললেও পরে দেখা দেয় নদীর ভাঙন।
এদিকে প্রতি বছরই নদী ভাঙনে বিলীন এমন একাধিক পরিবারের বসতভিটা। বারবার স্থান পরিবর্তন করেও মিলছে না রক্ষা। নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করার কারণে ঢেউয়ে আঘাতেও ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, গত তিন বছর এই নদী বিরামহীনভাবে ভাঙছে। ভাঙন রোধে নেয়া হচ্ছে না যথাযথ কোনো ব্যবস্থা। এখনো যদি পদক্ষেপ নেয়া হয় তবে নদীর তীরের মানুষেরা ফিরে পাবে বাঁচার নতুন স্বপ্ন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার উজ জামান বলেন, নদী ভাঙন রোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।