সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

জুলাই / ২৭ / ২০২২


উর্মি

সেই উর্মি ‘নির্দোষ’!


181

Shares

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. বুলবুল আহমেদ খুনের পেছনে আরেক শিক্ষার্থী মার্জিয়া উর্মির কোনো যোগসাজশ নেই। তিনি নির্দোষ। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ।

তিনি জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছেন বুলবুল। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। তারা খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রেসব্রিফিং করেন আজবাহার আলী শেখ।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাবির পেছনের টিলাগাঁওয়ের মো. গোলাব আহমদের ছেলে কামরুল আহমদ (২৯), একই গ্রামের মৃত তছির আলীর ছেলে মো. হাসান (১৯) ও আনিছ আলীর ছেলে মো. আবুল হোসেন (১৯)।

গত সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গাজী-কালুর টিলার পাশে (নিউজিল্যান্ড এলাকায়) ছুরিকাঘাত করা হয় শাবির লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে (২২)।

তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বুলবুলের বাড়ি নরসিংদী সদরের নন্দীপাড়া গ্রামে। তিনি শাবির শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

ঘটনার সময় বুলবুলের সাথে ছিলেন শাবির বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাসিন্দা মার্জিয়া উর্মি। বুলবুল খুন হওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করা হয় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যান উর্মি। এতে তার দিকে সন্দেহের তীর যায়। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উর্মিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই পাওয়া যায়।

তার মোবাইলের কললিস্টও মুছে ফেলা হয়েছিল। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে উর্মির চলে যাওয়া এবং কললিস্ট মুছে ফেলার বিষয়ে আজ প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘উর্মি হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, সে জানতে পারে নিহত বুলবুলের জানাজা ক্যাম্পাসে হবে। জানাজায় শরিক হতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসে।

তার চলে আসার পেছনে অপরাধমূলক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।’ ‘আমরা উর্মির মোবাইল ও কললিস্ট চেক করে দেখেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কারো সাথে উর্মির মোবাইল যোগাযোগ ছিল না।

তার মোবাইলে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি।’ প্রেসব্রিফিংয়ে আজবাহার আলী শেখ বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। আটক করা হয় তিনজনকে। তাদেরকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তন্মধ্যে মো. আবুল হোসেন খুনের ঘটনায় জড়িত মর্মে গতকাল রাত ১২টার দিকে স্বীকারোক্তি দেন। ঘটনার সাথে জড়িত আরো দুজনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন তিনি। তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কামরুল আহমদ ও মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তারাও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে কামরুলের বাড়ি থেকে বুলবুলের মোবাইল ফোন ও খুনে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে আমরা জেনেছি, ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

শাবির গাজীকালু টিলা এলাকায় সোমবার অবস্থান করছিলেন আবুল হোসেনসহ চারজন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুজন চলে যায়। সন্ধ্যার পর বাকি দুজনের সঙ্গে যোগ দেয় কামরুল। গাজীকালু এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘুরতে যান শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ ও মার্জিয়া উর্মি।

ওই এলাকা নির্জন। তাদেরকে সেখানে পেয়ে আবুল হাসান, কামরুল আহমদ ও মো. হাসান মোবাইল ও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে বুলবুলের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। তখন তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।’

ছিনতাইকারীরা বুলবুলের মানিব্যাগ ও উর্মির মোবাইল, ব্যাগ কেন নেয়নি, প্রেসব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্ন তুলেন সাংবাদিকরা। তখন আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘উর্মিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

সে বলেছে, ঘটনার সময় বুলবুলের কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিল। বুলবুলের মানিব্যাগও খোয়া যায়নি। গ্রেফতারকৃতরা বলেছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের পর রক্ত দেখে তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।’

প্রসঙ্গত, বুলবুল খুনের ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় গতকাল মঙ্গলবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

এদিকেম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সিলেট প্রতিক্ষণ