সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মে / ২৩ / ২০২২


in the flood

সিলেটে ২২ কোটি টাকা ভেসে গেল বানের জলে!


144

Shares

এমন ভয়াবহতা দেড় যুগের মধ্যে দেখেননি কেউ। সেই ২০০৪ সালের পর এবার ভয়াল বন্যায় কুপোকাত হলো সিলেট। অদম্য বানের জলে প্লাবিত হলো এখানকার প্রায় সব অঞ্চল। সেই জলে মৎস্য খামারিদের প্রায় ২২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে খামারের মাছ ভেসে যাওয়ার ক্ষতি যেমন আছে, তেমনি আছে অবকাঠামোগত ক্ষতিও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খামারিদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উপর মহলে অভিহিত করা হয়েছে। যাতে তাদের জন্য কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। সিলেট জেলা মৎস্য অফিস সূত্র বলছে, সিলেটে প্রায় ৫৩ হাজার পুকুর, খামার, হ্যাচারি ও দিঘীতে মাছ চাষ করা হয়।

এবারের বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলার ১৮ হাজার ৭৪৯টি পুকুর, খামার, হ্যাচারি তলিয়ে যায়। এতে ২ কোটি ১৩ লাখ মাছের পোনা এবং ২ হাজার ৩০৫ টন মাছ ভেসে গেছে। সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ আজ সোমবার সিলেটভিউকে বলেন, ‘বন্যায় ১৫ হাজার ১৬৩ জন মাছ চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।’ মৎস্য অফিসের তথ্যানুসারে, এবার বন্যায় মৎস্যখাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলায়।

জৈন্তাপুর উপজেলায় ২ হাজার ১০০টি খামার ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। জকিগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ৩৫০টি খামার প্লাবিত হয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। বিয়ানীবাজারে ১ হাজার ৪০২টি খামার তলিয়ে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বনাথ উপজেলায় ২ হাজার ১৫০টি খামার বানের জলে ভেসে গিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গোয়াইনঘাটে ভেসে গেছে ২ হাজার ৫৯২টি খামার, ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কানাইঘাটে তলিয়ে যাওয়া খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০টি, ক্ষতির পরিমাণ ৬৪ লাখ টাকা। এর বাইরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৮৪৫টি, সদরে ৫৩৫টি, দক্ষিণ সুরমায় ২১০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১৪৫টি ও বালাগঞ্জে ৭০টি খামার তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীরা বলছেন, বন্যায় তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠতে সরকারের প্রণোদনা প্রয়োজন। মাছ চাষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্বনাথের রুবা খানম বলেন, ‘বন্যায় মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন, তাদের অবস্থা বেশি খারাপ। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। এখন প্রণোদনা দেওয়া হবে কিনা, কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

সিলেট প্রতিক্ষণ