সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মে / ২২ / ২০২২


Billions, of taka

সিলেটে বন্যায় নষ্ট কোটি কোটি টাকার ধান-চাল


100

Shares

করোনাকালের দুই বছরের ধাক্কা কোনোমেত সামলে উঠেছিলেন সিলেটের মানুষ। কিন্তু গ্রীষ্মে ভরাবর্ষার ভয়ঙ্কর রূপ ২০০৪ সালের বন্যাকেও হার মানায়। উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে এবার ডুবেছে সিলেট নগরের প্রায় অর্ধেক এলাকা।

বানবাসী হয়েছেন ১৩ উপজেলার মধ্যে ১০টির শতাধিক ইউনিয়নের মানুষ। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন লোকজন। যে ক্ষতি অংকের হিসেবে পোষাবার নয়! ১১ মে থেকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বুকে ঠাঁই দিতে পারেনি সুরমা।

ফলে পানি উপচে প্লাবিত হয়ে দিনের পর দিন ক্ষতির সংখ্যা বাড়িয়েছে। কৃষিজীবী থেকে ব্যবসায়ী সব শ্রেনীর মানুষ ক্ষতির ‍সম্মুখীন হয়েছেন। বানবাসী হয়েছেন ১৩ উপজেলার মধ্যে ১০টির শতাধিক ইউনিয়নের অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সর্বশান্ত হয়েছেন কৃষকরা। সম্প্রতি ঘরে তোলা বোরো ফলসও বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

অবারিত বর্ষণে ধানে চারা গজিয়েছে। শনিবার (২১ মে) থেকে নদ-নদীর পানি খানিকটা স্থিতিশীল হওয়াতে নগরী থেকে পানি নেমে যায়। চারিদিকে মানুষ যখন খাবার সংকটে, তখন বন্যা পরবর্তী ক্ষতির দিকটা ফুটে উঠছে। নগরীর কাজিরবাজার ধান-চালের মিল ও আড়তে গিয়ে বৈরী চিত্রের দেখা মিললো। গোদামে রাখা সারি সারি ধান-চালের বস্তা।

প্রতিটি বস্তাতে ৫০ কেজি চাল। বস্তাতে ২ মন করে ধান রাখা ছিল। হাজার হাজার টন ধান-চাল বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। হু হু করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আড়ৎদাররা সেসব ধান চালের বস্তা সরানোর ফুসরত পাননি। প্রতিটি গোদামে বন্যার পানিতে ধান-চাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ধান-চালের পঁচা দুর্গন্ধে এলাকার বাতাসও দুষিত হয়ে গেছে। যেগুলো এখন গো-খাদ্যেও ব্যবহার করার অনুপযুক্ত। ব্যবসায়ীদের এ ক্ষতি যেনো চোখে দেখে সহ্য করার মতো নয়। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর কাজিরবাজার মোস্তাক এন্ড ব্রাদার্সের ৫টি গোদামের এক একটিতে অন্তত সহস্রাধিক বস্তা করে চাল রাখা ছিল।

যেগুলো বন্যার পানিতে গলে-পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনোমতে কিছু চাল সরাতে পারলেও বেশিরভাগ বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। একইভাবে এম এস অটো রাইস মিল, মতিন ব্রাদার্স, হাসান ব্রাদার্স, ফাইয়ান ও পদ্মা রাইস মিল, দয়া ও জামান মিল, রঙ্গেশ অটো রাইস মিলের হাজার হাজার বস্তা ধান-চাল।

মোস্তাক এন্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম বলেন, ৫টি গোদামের প্রতিটিতে এক হাজার, ১২শ’ বস্তা চাল রাখা ছিল। এরমধ্যে ১ হাজার ২০০ বস্তা চাল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রঙ্গেশ অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ চন্দ্র দেব বলেন, আমার গোদামে ১৪শ’ বস্তা চাল রাখা ছিল। এরমধ্যে ২০০ বস্তা ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এসএল অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান বলেন, বন্যার পানিতে তার এক হাজার বস্তা চাল ও ধান ভিজে পচে নষ্ট হয়ে ২০ লাখ টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আরো অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শত শত বস্তা চাল ও ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ভিজে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা গোদাম থেকে সেগুলো সরাতে পারেননি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যা ঠিকই চলে গেছে। তবে কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট করে দিয়ে গেলো। জলে ভিজে নষ্ট হয়েছে কোটি কোটি টাকার ধান-চাল।

এদিকে, গ্রামীণ জনপদে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে রোবো ধান শুকাতে না পারায় অনেকের ধনে চারা গজিয়েছে। ভোক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টিতে ধান শুকানোর সুযোগ না মেলায় চারা বস্তার মধ্যে ধানে চারা গজিয়েছে। এমনিতে বন্যায় প্রাণ বাঁচানো দায়, ঘরে পানি উঠে অনেকের বাড়িতে শত শত মন ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

সিলেট প্রতিক্ষণ