সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

জুন / ০৮ / ২০২২


ছয় লাশ

সিলেটে একদিনে বসতঘর, নদী-পুকুরে মিলল ছয় লাশ


145

Shares

সিলেটে একদিনে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক বৃদ্ধের গালাকাটা লাশও ছিল। মঙ্গলবার (৭ জুন) সিলেট বিভাগের জগন্নাথপুর, ছাতক, নবীগঞ্জ, মাধবপুর ও বানিয়াচংয় থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গর্ন্ধবপুর গ্রাম থেকে সুরুজ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি গন্ধর্বপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধর্বপুর গ্রামে সুরুজ আলী টিনসেড ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ঘরের এক কক্ষে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকেন। অন্য আরেকটি রুমে বড় ছেলে সুজাত মিয়াকে নিয়ে থাকতেন সুরুজ আলী।

রাত প্রায় ২টার দিকে সুজাত মিয়া প্রকৃতির ডাকে বাহিরে যান, কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে দেখেন তার বাবার গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। তখন সুজাত মিয়া চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জে প্রেরণ করে। জগন্নাথপুর থানার এস আই আব্দুস ছাত্তার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের টেটিয়ারচর গ্রাম সংলগ্ন বোকা নদী থেকে নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর ফাহিমা বেগম (৯) নামে এক স্কুলছাত্রীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। সে টেটিয়ারচর গ্রামের ছাদিকুল ইসলামের কন্যা ও চরচৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে পরিবারের লোকজনদের না জানিয়ে গ্রাম সংলগ্ন বোকা নদীতে গোসল করতে যায় ফাহিমা। গোসল করার এক পর্যায়ে সে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এদিকে ফাহিমাকে বাড়িতে না দেখে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি করতে থাকেন।

দিনভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও ফাহিমার কোন সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে বোকা নদীতে ফাহিমার ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন তার পরিবার ও পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং কোন অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ফাহিমার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্থান্তর করেন।

এ বিষয়ে চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় থানা পুলিশকে অবগত করে ফাহিমার লাশ দাফন করা হয়েছে। একইদিন দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিজনা নদীর সদরঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ২০ ঘন্টা পর মোজাক্কির মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মোজাক্কির মিয়া (২৫) ওই উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট দক্ষিণ পাড়া গ্রামের ছলিম উল্লাহর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নৌকাযোগে হাওরে কাজ করতে যান মোজাক্কির মিয়াসহ ৩ যুবক।

হাওরে কাজ শেষে নৌকা যোগে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে নৌকাতে থাকা অপর দুই যুবকের অগোচরে নৌকা থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন মোজাক্কির। সাথে থাকা ওই দুই যুবক হঠাৎ নৌকায় মোজাক্কিরকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন।

পরে নদীতে নেমে আত্মীয়-স্বজন খোঁজাখুঁজি করলেও মোজাক্কিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলার বিজনা নদীর সদরঘাট এলাকায় মোজাক্কিরের মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।

পরে পুলিশকে খবর দিলে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. ডালিম আহমেদ ও গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক সামছুদ্দিন খান সহকারে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেন। এ প্রসঙ্গে গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক সামছুদ্দিন খান বলেন, মোজাক্কির মৃগী রোগী ছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি।

মঙ্গলবার সকালে মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া গ্রাম থেকে সাগর দেব মরণ (২০) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আন্দিউড়া গ্রামের হরিপদ দেবের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর দেব মঙ্গলবার (৭ জুন) সকালে ঘুম থেকে উঠছে না দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকতে গিয়ে ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান।

পরে খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

দুপুরে বানিয়াচংয় উপজেলার দত্তপাড়া মহল্লায় খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে রাহিম আহমেদ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।তিনি ওই মহল্লার আরকান মিয়ার ছেলে। বানিয়াচং থানার ভারপ্র্পবত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন জানান, রাহিম আহমেদ নামে ওই যুবক দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খলায় খেলাখুলা করছিল। এসময় হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাত হলে সে বজ্রাঘাত হয়।

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেবাশিষ রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একইদিন দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবু তালিব নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সে ওই এলাকার ময়নুল হোসেন ওরফে আব্দুল হাসিমের ছোট ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফজলুল আউয়াল বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবু তালিবকে তার মা খাওয়া-দাওয়া করিয়ে ঘরের ভিতর খেলতে রেখে গৃহস্থালীর কাজে ব্যস্ত হয়ে যান।

ঘরে গেইট খোলা থাকায় পরিবারের সবার অজান্তে বাড়ির পাশে পুকুরে পড়ে যায় সে। তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে প্রায় ঘণ্টা খানেক খোজাখুঁজির পর পুকুরের পানিতে তালিবের দেহ ভাসতে দেখেন। পরে দ্রুত তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু তালিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিলেট প্রতিক্ষণ