সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

মে / ০৯ / ২০২১


আলি হাসান উসামা

সিলেটের কালান্তর প্রকাশনী গোয়েন্দা নজরদারিতে


381

Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘উগ্রবাদী’ বক্তব্য ও  জিহাদের বিষয়ে  ‘ভুল ব্যাখ্যা’ সংবলিত একাধিক বই প্রকাশের জন্য গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে সিলেটের কালান্তর প্রকাশনী। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান উগ্রবাদিতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ইসলামি বক্তা আলি হাসান উসামার একাধিক বই প্রকাশ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা, সিলেটে জন্ম নেয়া আলি হাসান উসামা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্রবাদী বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি অনেকগুলো বই লিখেছেন। এসব বইয়ের মধ্যে জিহাদের বিষয়ে অপব্যাখ্যা রয়েছে। এই বইগুলোর মাধ্যমে তরুণদের ব্রেইনওয়াশ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে একটি কথিত ‘মানহাজি’ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। যা দ্বারা তরুণ প্রজন্মতে বিপথে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বই লেখা ও অনুবাদের মাধ্যমে তরুণদের ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করছেন আলি হাসান উসামা। তার এসব বই প্রকাশ করছে সিলেটের বন্দরবাজারের কুদরত উল্যাহ মার্কেটের কালান্তর প্রকাশনী। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান উসামার বই প্রকাশ করে দেদারসে বিজ্ঞাপন ও কিতাবমেলা করে বিক্রি করে আসছে।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সিলেটের কালান্তরসহ যেসব প্রতিষ্ঠান উসামার জিহাদি বই-পুস্তক প্রকাশ ও প্রচার করে আসছে, তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, কালান্তর প্রকাশনী আলী হাসান উসামার অনেকগুলো বই প্রকাশ করেছে। তাদের ওয়েবসাইটে উসামার বেস্ট সেলার বই হিসেবে যে তালিকা দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ‘ইসলামি আকিদা’, ‘ফিতনার বজ্রধ্বনি’, ‘কুফর ও তাকফির’, ‘জান্নাতের সবুজ পাখি’, ‘মুক্ত প্রাণের হে সন্ধানী’, ‘তাওহিদের মর্মকথা’ এবং ‘বিয়ে ও ডিভোর্স’ রয়েছে।

কালান্তর প্রকাশনীর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- আলী হাসান উসামার জন্ম সিলেটে। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকার দুটো প্রতিষ্ঠানে। আলি হাসান উসামা রাজবাড়ী জেলায় একটি মাদ্রাসা তৈরি করে সেখানেই বসবাস করে আসছিল। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি লেখালেখি, অনুবাদক, সম্পাদনা ও বয়ান করেন। তার ‘ফিতনার বজ্রধ্বনি’ ও ‘মুক্ত প্রাণের হে সন্ধানী’ বই কালান্তরের বেস্টসেলার তালিকায় নাম উঠিয়েছে। এছাড়াও তাঁর অনূদিত ও সম্পাদিত আরো কয়েকটি বই কালান্তর থেকে বেরিয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে কালান্তরের অফিসিয়াল মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, আলী হাসান উসামার নির্দেশে সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য আল সাকিব। এই হামলার জন্য সাকিবকে মোট ৩১৩ জন সদস্যকে একত্রিত করার নির্দেশনা দেয় উসামা। বদর যুদ্ধের আদলে এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল সে। এজন্য ফেসবুকে গোপন একটি গ্রুপও খোলা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাকিব কয়েকজন সহযোগীসহ সংসদ ভবন এলাকায়ও গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে ছিল ধারালো অস্ত্র। উদ্দেশ্য ছিল- হামলা করে সংসদ ভবনে প্রবেশ করা।

কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আগে থেকেই বিষয়টি জানতে পেরে আল সাকিবকে গত বুধবার (৫ মে) রাত ৮টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী কয়েকজন পালিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয় আলি হাসান উসামাকে।

সিলেট প্রতিক্ষণ