156
Sharesচা শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে ঢাকায় সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে চলমান চা শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাতে শেষ হওয়া বৈঠকে কোন সমাধান হয়নি। বৈঠক শেষে চা শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা না হলে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। চা শ্রমিক নেতা স্বপন সাওতাল বলেন, ১২০ টাকা মজুরিতে জীবন ধারন করা কষ্টসাধ্য।
আবার প্রতিদিন ২৩ কেজি চা পাতা তুলতে না পারলে ১২০ টাকাও দেওয়া হয় না। একদিন কাজ না করলে রেশন কেটে নেওয়া হয়। তারা বলছে, সরকারের এবং মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকরা যে না খেয়ে মারা যাছে, সেটা কেউ বলছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমজীবী মানুষ, কাজ করতে চাই, আন্দোলন করতে চাই না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি, কেন আমরা ন্যায্য মজুরি পাবো না? আমরা শ্রমের সঠিক মজুরি চাই।
যতদিন আমরা তা পাবো না ততদিন আমরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে যাবো। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আমাদের মজুরি ১২০ টাকা।
দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই ১২০ টাকায় কোনভাবেই সংসার চালানো সম্ভব নয়। আমরা ৩০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব করেছি। আমাদের প্রস্তাব না মানা হলে কর্মবিরতি চলতে থাকবে।
বৈঠকে মালিক পক্ষ কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিক পক্ষ বলছে, আমরা আন্দোলন বন্ধ করলে, তারা আমাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। মালিক পক্ষ আমাদের বর্তমান মজুরির সঙ্গে আরও ১৪ টাকা যোগ করে মোট ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ঘোষণা অনুসারে আজ বৃহস্পতিবারও কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন চা শ্রমিকরা। সিলেটসহ দেশের কোনো চা বাগানেই শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি।