সিলেট প্রতিক্ষণ



ডেস্ক রিপোর্ট

মার্চ / ২৭ / ২০২২


play news

তাহিরপুরে পণাতীর্থ গঙ্গাস্নান ও শাহ্ আরেফীন (র)’র ওরশ মঙ্গলবার শুরু


119

Shares

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহামারি করোনার কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর ফের দুই ধর্মের দুই আধ্যাত্মিক সাধকের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এ দুটি উৎসব হচ্ছে, সনাতন ধর্মাবল্বীদের অন্যতম বৃহৎ মহোৎসব পণাতীর্থ গঙ্গাস্নান এবং ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ আরেফীন (র)’র পবিত্র ওরশ শরীফ। মুসলিম ও সনাতন ধর্মের দুই আধ্যাতিক সাধকের ভক্তবৃন্দের মিলনমেলা। দুই ধর্মের দুই মিলনমেলা ২৯ মার্চ সকাল থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ৩১মার্চ সকালে।

প্রতি বছরের মতো এবছরও উভয় ধর্মের কয়েক লাখ মানুষের সমাঘম ঘটে বলে আয়োজক ও উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে। শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর আখড়াবাড়ী ও জন্মধাম সংরক্ষণ সংস্কার কমিটি সুত্রে জানা যায়, শ্রী শ্রী অদ্বৈত্য আর্চা মহা প্রভুর রাজারগাও লাউড় নবগ্রাম যাদুকাটা নদীর তীরে দেশের সনাতন ধর্মবলম্বীদের বৃহৎ গঙ্গাস্নানের মুখ্য সময় এ বছর ১৫ই চৈত্র, ৩০ শে মার্চ বুধবার দিবা ঘঃ ৬/০৬/০৯ সেঃ হতে ঘ ১১/২৩/০৫ সেঃ মধ্যে।

গঙ্গাস্নান ও মেলাকে কেন্দ্র করে মঙ্গল আরতী, ভজন, লীলা, কীর্তন, বৈদিক নাটক, গঙ্গাপূজা এবং মঞ্চ শিল্পীদের অংশ গ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান এবং ধর্মীয় আলোচনা আখড়াবাড়ী ও বালুর চড়ে বারুনীমেলা অনুষ্টিত হবে।

অপরদিকে, তাহিরপুর সীমান্তের লাউড়েরগড় এলাকায় মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে হযরত শাহ্ আরেফীন (র)’র আস্তানায় ওরশ মোবারক একই সময়ে শুরু হয়ে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ওরশ উদযাপন কমিটি জানান, ওরশ ও গঙ্গাস্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশ বিদেশের কয়েক লাখ নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতার সমাগম ঘটবে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাগল ফকির, ভক্ত ও সাধক, দর্শনার্থীদের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ও আখড়াবাড়ীর আশ পাশের গ্রামগুলিতে অবস্থান করছেন।

পাশাপাশি ওরশস্থলের আস্তানায় ইবাদতখানা, অতিথি ভবন, কাফেলাঘর, বাগানের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, আখড়াবাড়ী ও ইসকন মন্দিরে ভক্তবৃন্ধদের সমাঘম ঘটছে। পাশাপাশি যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভক্তবৃন্ধরা ভারতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে তার জন্য ওরশ আস্তানার সীমান্তে স্বেচ্ছাসেবক শ্রমিকরা বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত, হালকা জিকির, মুর্শিদী, ভাটিয়ালী, ভান্ডারী, পল্লীগিতী, বাউল, হাসন রাজার লোক সঙ্গীতে ওরশ ও মেলাস্থল মাতিয়ে রাখবেন শিল্পিরা। তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, আখড়াবাড়ী, পণাতীর্থ গঙ্গাস্নান, গড়কাটি ইসকন মন্দির, বারুনী মেলা ও ওরশ মোবারক আস্তানায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে মেলা প্রাঙ্গনে অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হবে।

এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ নজরদারী, মেডিকেলটিম এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে দিবারাত্রী যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃংখলাবাহিনীর টহলদল জোরদার থাকবে।

সিলেট প্রতিক্ষণ