145
Sharesকরোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশে শিক্ষার্থীদের টিকাদানের আওতায় আনা হয় গত ১ নভেম্বর। এই কার্যক্রমে এখনো পিছিয়ে রয়েছে সিলেট বিভাগের ৪টিসহ ৩৪ জেলা।
শিক্ষার্থী ছাড়া সামগ্রিকভাবেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধক টিকাদানে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট বিভাগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এসব তথ্য জানিয়েছে। ডব্লিউএইচও’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে ৩৪ জেলায় এই হার অনেক কম।
৪০ শতাংশের কম টিকা পেয়েছে দুটি জেলার শিক্ষার্থীরা, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ১৫টি জেলা এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে ৩৮টি জেলায়। আর ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে ৯ জেলায়। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টিকাদানে এখনো ঘাটতি পূরণ হয়নি। সে কারণে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল পর্যায়ে এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে। ১৮ বা তার চেয়ে বেশি বয়সীরা এই টিকা পাবেন।
১৮ বছরের নিচে যারা, তাদের টিকা কার্যক্রমও চলবে। ডব্লিউএইচওর হিসাব বলছে, পিছিয়ে থাকা ৩৪ জেলার মধ্যে সিলেট বিভাগের সিলেটে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ ও হবিগঞ্জে ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার ১ম ডোজ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পর্যন্ত সামগ্রিকভাবেও টিকাদানে দেশের সব বিভাগ থেকে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট। পরিসংখ্যান বলছে- ঢাকা বিভাগে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ, দ্বিতীয় ডোজ ৪১ দশমিক ২ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খুলনা বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪০ দশমিক ২ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম টিকা পেয়েছেন সিলেট বিভাগের মানুষ।
এই বিভাগে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। করোনা প্রতিরোধক টিকাদানে সিলেট পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার সিলেটভিউ-কে বলেন, সিলেটের মানুষ বেশি প্রবাসমুখী। তাই বেশিরভাগ মানুষই চান চায়না ছাড়া অন্যান্য টিকা নিতে। আর আগে সিনোফার্ম ছাড়া অন্য টিকা আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ছিলো না। তাই টিকাদানে সিলেটে ধীরগতি হয়েছে। তবে এবার ফাইজারের টিকা সিলেটে পর্যাপ্ত রয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আশা করছি শতভাগ না হলেও এর কাছাকাছি পরিমাণে সিলেট জেলায় টিকাদান সম্পন্ন হবে।
পিছিয়ে আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটের মানুষ অনেকটা নিজের মতো করে টিকার বিষয়টিকে দেখেন। কেউ বলেন- মরলে তো এমনি মরবো। টিকা নিয়ে আর কী হবে? টিকা নিলে কি মানুষ করোনায় মরে না? আবার অনেকে বলেন- রোগ দেন স্রষ্টা, সুস্থতাও দান করেন তিনি। সুতরাং টিকা দিয়ে কী লাভ? ডা. এস এম শাহরিয়ার বলেন, সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তা উপজেলায় অনেকেরই এমন মন্তব্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে, সিলেট মহানগরীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিকাদানের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকার ১ম ডোজ প্রদান কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আমরা বার বার স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষর্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আশা করছি- আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মহানগরীর সকল শিক্ষার্থী টিকার আওতায় চলে আসবে।
তিনি বলেন, মহানগরীতে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তালিকা করে এগুলোতে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে টিকা দিচ্ছেন।