এক্সক্লুসিভ



দেশদর্পণ ডেস্ক

এপ্রিল / ১৬ / ২০২৬


ধারণার চেয়েও দ্রুত’ দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত


28

Shares


আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেই আশঙ্কা আগের চেয়ে ‘অনেক বেশি বেড়েছে’ বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো এ মহাসাগরের স্রোতের গতি ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আভাস দিয়েছিল, সেগুলোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

নতুন এই তথ্যকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ আটলান্টিকের স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে।

গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন’ বা ‘অ্যামোক’ হলো বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ব্যবস্থা যে ১ হাজার ৬০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেটি আগে থেকেই জানা। ২০২১ সালে এর চরম বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অতীতেও এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে বলেও তারা জানেন।

বিশ্ব জলবায়ু ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ ‘অ্যামোক’ বিষুবীয় অঞ্চলের সূর্যের তাপে উষ্ণ হওয়া পানিকে ইউরোপ ও সুমেরু অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেই পানি শীতল হয়ে সমুদ্র তলদেশে গিয়ে গভীর ফিরতি স্রোত তৈরি করে। এই ‘অ্যামোক’ ভেঙে পড়লে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিপাত বলয়টির জায়গা পরিবর্তন হবে, যে বলয়ের ফলে কয়েক কোটি মানষের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে স্রোত থেমে গেলে পশ্চিম ইউরোপে শীতকালে আরও কঠিন ঠান্ডা আর গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ খরা হবে। সেইসঙ্গে আটলান্টিক মহাসাগর সংলগ্ন এলাকায় ক্রমবর্ধমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে যাবে।

ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিয়ে ডজনখানেক ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীরা। তবে জটিল ‘অ্যামোক’ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই মডেলগুলো একেক সময় একেক রকমের ফলাফল দেখায়।

কোনো মডেল বলছে, ২১০০ সাল নাগাদ আটলান্টিকের স্রোত শ্লথ হবে না। আবার কোনো মডেল বলছে, সেখানকার স্রোত প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ ‘নেট জিরো’ বা শূন্যে নামিয়ে আনলেও সেটি ঘটতে পারে।

সবশেষ গবেষণায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পেতে সমুদ্রের বাস্তব পর্যবেক্ষণ তথ্যের সঙ্গে কম্পিউটার মডেলগুলোকে সমন্বয় করা হয়েছে, যা গবেষণায় অনিশ্চয়তার মাত্রা অনেকটাই কমিয়েছে। তাতে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ২১০০ সাল নাগাদ আটলান্টিকের স্রোত ব্যবস্থা ৪২ শতাংশ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই এই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার দিকে নিয়ে যাবে।

ফ্রান্সের ‘ইনরিয়া সনথো দু হসেআস্সা বোদোও সুদয়েস্ট’ এর ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান এ নতুন গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি সমস্ত জলবায়ু মডেলের গড় হিসাবের তুলনায় ‘অ্যামোক’ অনেক বেশি হ্রাস পেতে যাচ্ছে। এর মানে হলো আমাদের ‘অ্যামোক’ ব্যবস্থাটি একটি চূড়ান্ত বিপর্যয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছে।”

এ গবেষণার ফলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক বলছেন জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের অধ্যাপক স্টিফেন রাহমস্টর্ফ।

তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে ২১০০ সালের মধ্যে ‘অ্যামোক’ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ার যে নেতিবাচক চিত্র এর আগে দেখা গিয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোই এখন বাস্তবসম্মত। কারণ বাস্তব পর্যবেক্ষণের তথ্যের সঙ্গে ওই মডেলগুলোরই বেশি মিল পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ‘অ্যামোক’ ব্যবস্থা থেমে যাওয়ার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলার আশঙ্কা করছেন তিনি।

“এর ফলে এর পতন অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। আর সেই সময়টি আমাদের খুব কাছেই,” যোগ করেন অধ্যাপক স্টিফেন রাহমস্টর্ফ।


ওয়াইএফ/০২

এক্সক্লুসিভ