136
Sharesদেশের সকল মোবাইল অপারেটর এখন থেকে ইংরেজীর পরিবর্তে গ্রাহকদের বাংলায় এসএমএস এবং নোটিফিকেশন পাঠাবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিটিআরসির উদ্যোগে এই কার্যক্রম চালু করা হয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে গ্রাহকদের নিকট বাংলায় নোটিফিকেশন বা এসএমএস প্রেরণ কার্য়ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। আগামী জুনের মধ্যে শতভাগ এসএমএস বা নোটিফিকেশন গ্রাহকদের কাছে বাংলায় পাঠাতে মোবাইল অপারেটরদেরকে মন্ত্রী নির্দেশ দেন।
বিটিআরসি‘র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: খলিলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। https://sangbad.net.bd/images/2022/February/21Feb22/news/mobile-op-2.jpg অনুষ্ঠানে বিটিআরসি‘র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন, গ্রামীণ ফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, রবি‘র ভারপ্রাপ্ত সিইও রিয়াজ রশিদ এবং বাংলা লিংক-এর ভারপ্রাপ্ত সিইও তৈমুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসি‘র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।
অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় এসএমএস বা নোটিফিকেশন রূপান্তরের পেছনের কাজগুলো চ্যালেঞ্জিং ছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটি করা হয়েছে।‘ তিনি বলেন প্রযুক্তিগত দিক থেকে কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষা পিছিয়ে নেই। এমন কোন ডিভাইস বা যন্ত্র নেই যেখানে বাংলা লেখা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম হওয়ার সময়ও বাংলার প্রকৃত রূপ ছিল না – অনেক বর্ণমালা বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি নিজে সেই বর্ণগুলো যুক্ত করাই। এরপর ইন্টারনেটে ব্যবহার করার যেসব সংকট ছিলো সেসবও দূর করা হয়েছে।
বাংলার এনকোডিং ও কীবোর্ডও এখন প্রমিত। তাই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা কঠিন এই অজুহাত দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।’ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই বাঙালির জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন‘ আমরা স্বাধীনতা পেলে আমাদের দাপ্তারিক ভাষা হবে বাংলা ‘ – বঙ্গবন্ধু তাই করেছিলেন।’ মুনির কীবোর্ডকে পূর্ব জার্মানীর অপটিমা কোম্পানির সহায়তায় অপটিমা মুনির টাইপ রাইটার যন্ত্রটি তৈরির ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অফিস আদালতে বাংলা চালু করেছিলেন।
’ ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমান বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন পুরনো আইন, বিধি-বিধান যা ইংরেজিতে ছিলো তা বাংলায় করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা নয় দায়বদ্ধতা থেকেই প্রযুক্তিতে বাংলা ব্যবহারে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিটিআরসি‘র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার ।