এক্সক্লুসিভ



ডেস্ক রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী / ১৯ / ২০২২


news part

শিক্ষানগরীতে আমাদের একবেলা


137

Shares

দেশের শিক্ষানগরী হিসেবে বিবেচনা করা হয় ময়মনসিংহ জেলাকে। এ জেলায় প্রায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ময়মনসিংহ ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন ব্যস্ততায় হয়ে উঠছিল না। সম্প্রতি সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)-এর কমিটি গঠনের পর নতুন সদস্যরা একদিনের ট্যুরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

ভাবনা মোতাবেক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের পাশের স্পটগুলো পরিদর্শন করার চিন্তা করি। ১২ই ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিন সকাল আটটায় নবীনগর থেকে ছয় জন রওনা করে গাজীপুর চৌরাস্তা পৌঁছাই। সেখানে যুক্ত হন গবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসিফ আল আজাদ। সাতজন ময়মনসিংহের বাসে উঠি। গাড়িতে দুই ঘণ্টার যাত্রায় সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা হয়।

নতুনরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত, চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করে। গল্পে-আড্ডায় দ্রুতই দেশের চতুর্থ বৃহত্তম শহরে পৌঁছে যাই। তখন দুপুর। অনেকের শিক্ষানগরীতে এটি প্রথম ভ্রমণ ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্রের পাশেই বাকৃবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই বিভিন্ন স্থানে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা ফুল গাছগুলো যেন আমাদের বরণ করে নিচ্ছিল। ফুলের ক্যাম্পাস তকমা পাওয়া বাকৃবি’র পুরো অংশজুড়েই রয়েছে ফুলের বিশাল সমারোহ। আমরা প্রথমে টিএসসিতে কিছুক্ষণ আড্ডা দিই। এরপর রেললাইন ঘুরে আসি। পাশেই ছিল ‘লো-ডাউন’ ব্রিজ।

সেখানে ফটোসেশন শেষ করি। ইতিমধ্যে পাশ দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে একটি ট্রেন। আধা ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড় থেকে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করি। এরপর বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি আবুল বাশার মিরাজ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখান। বোটানিক্যাল গার্ডেন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখি। গার্ডেনে বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ, ছোট বড় বৃক্ষের সন্ধান পাই।

সচরাচর দেখা মিলে না- এমন অনেক কিছুই চক্ষুগোচর হয়। স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় স্থানে নিজেদের ফ্রেমবন্দি করি। এভাবে বিকাল গড়িয়ে আসে। বাকৃবিসাস কার্যালয়ে তখন দুই সমিতির সদস্যরা মিলিত হই। কথা হয় বিভিন্ন বিষয়ে। তাদের থেকে বিদায় নিয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। সন্ধ্যার পর শহরবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্র শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন উদ্যান তথা ময়মনসিংহ পার্কে যাই। সেখানে নিজ ক্যাম্পাসের এক দম্পতির সঙ্গে দেখা করি। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরজুড়ে থাকা এ পার্কে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করি।

চায়ের কাপে চুমু, সঙ্গে চলে আড্ডা। সময় গড়িয়ে ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন আটটা। এবার ফেরার পালা। পুনরায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছাই। বাসযোগে রাত সাড়ে বারোটায় সকলে নবীনগর ফিরি। এভাবেই শিক্ষানগরীতে একদিনের আনন্দ ভ্রমণের গল্প শেষ হয়।

অনিক আহমেদ শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। সভাপতি, গণবিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)।

এক্সক্লুসিভ