127
Sharesদেশের মাঝে যখনই কোনো সংকট দেখা দিয়েছে, কিংবা দেশ বা মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা উঠেছে তখনই ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে বিভিন্ন রূপে ‘সুবোধ’র দেখা মিলেছে। কখনো দেখা যায় সময় পক্ষে না বলে সে পালিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো কোনো এক পথশিশুর পাশে বসে সম্ভাবনার আশা দেখাচ্ছে।
তবে এবার সেই সুবোধের দেখা মিলেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ রাস্তার পাশের দেয়ালে দেখা যায়- ‘সুবোধ টেলিফোনে কথা বলছে।
টেলিফোনের ওপাশে জিজ্ঞেস করছে হবেকি?’ এর থেকে সামনে এগিয়ে গেলে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে আরেকটি গ্রাফি চোখে পড়ে। সেখানে অন্ধকারের মধ্যে থেকে সূর্যমুখী ফুল হাতে একটি হাত বের করে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে ‘কে বা কারা’এঁকে গেছে সুবোধের এই গ্রাফিতি। যেখানে সুবোধ ফোনে কথা বলছে এবং কালো তারে টেলিফোন সংযোগের অপর পাশে ইংরেজি বর্ণে লেখা ‘HOBEKI?’ (হবেকি?)। এই ‘হবেকি’ শব্দের ‘ও’ বর্ণ লাল রঙে ভরাট করা। আর সেখানেই টেলিফোনের সংযোগ।
এই গ্রাফিতির বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাতের আঁধারে কে বা কারা এই গ্রাফিতিটি এঁকেছেন আমরা জানি না। তবে সুবোধের এই গ্রাফিতিটি আমাদের কাছেও খুবই প্রাসঙ্গিক লাগছে। আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মেনে নেওয়া হবে এমন আশ্বাস আমাদের দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাস নিয়ে আমরা এখন বসে আছি এবং সুবোধের মতো আমাদের মনেও মাঝে-মধ্যে ওই প্রশ্নটি জাগে ‘হবেকি?’।
জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা এখন তাদের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছেন। দাবি আদায়ের বিষয়ে তাদের মনে প্রশ্ন, ‘হবেকি?’। যে ইংরেজি ‘ও’ অক্ষরটি লাল রং দিয়ে ভরাট করা, সেটি উদীয়মান সূর্যকে বোঝানো হয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই সূর্য উঠবে কিনা, সেটি বোঝাতেই লাল বৃত্ত আঁকা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সম্প্রতি শাবি শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে। হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ অভিযোগ এনে প্রথমে তিন দফা দাবি এবং পুলিশি হামলার পরে তা এক দফায় রূপ নেয়। প্রায় এক মাসের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে উপাচার্য বিরোধী এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী কথা লেখেন শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া আলোচনা করে এবং এর পরদিন শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের আন্দোলন ‘আপাতত’ প্রত্যাহার করেন। তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মন্ত্রীর আশ্বাসে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে এবং উপাচার্যের পদত্যাগ বিষয়ে মহামান্য আচার্য শিক্ষার্থীদের বিষয় বিবেচনা করে দ্রুত একটা সমাধান দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আন্দোলনের সময়ে লেখা দেয়াল লিখন, দেয়াল চিত্র এবং রাস্তায় লেখা স্লোগানগুলো মুছে দেওয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অন্যদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের বক্তব্যের মাধ্যমে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার এবং মনগড়া’বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।